হেমন্তে রুক্ষ আবহাওয়ায় চুলও নিষ্প্রাণ হতে থাকে। তার ওপর ধুলাবালির প্রকোপ তো আছেই। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন তেল অল্প গরম করে চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে মালিশ করতে হবে। যদি তেল দিলে অস্বস্তি বোধ হয় তাহলে ননস্টিকি (আঠালো নয়) অলিভ অয়েল বা বেবি অয়েল অল্প গরম করে নিয়ে তাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। এগুলো নারকেল তেলের সঙ্গেও মেশানো যাবে।
চুল এ আবহাওয়ায় তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে তাই ভালোমতো চুল পরিষ্কারের পর কন্ডিশনিংয়ের প্রয়োজন। শ্যাম্পু করার পর ডিমের সাদা অংশ, মেয়োনেজ অথবা ভিনেগার চুলে কন্ডিশনারের কাজ করবে। চুল যাঁদের বেশি রুক্ষ তাঁরা পারলারে হেয়ার স্পা করাতে পারেন। চুলের ধরন বুঝে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হারবাল প্যাক ব্যবহার করলেও চুল ভালো থাকবে। টকদইয়ের সঙ্গে মেথি এবং পাকা কলা ও নারকেল তেলের মিশ্রণ চুলকে কোমল করে। খুশকির সমস্যা সপ্তাহে দুই দিন নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস অথবা নিমপাতার রস মিশিয়ে চুলে ২০-৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
তৈলাক্ত ত্বকও এ সময় কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। শুষ্ক এবং স্পর্শকাতর ত্বকের অধিকারীরা এ সময় আরও বিপাকে পড়েন। ত্বক পানির সংস্পর্শে আসার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। ওয়াটার-বেসড নয় এ সময় ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। মুখ বেশি তেলতেলে মনে হলে মুখে একটা টিস্যু কিছুক্ষণ চেপে ধরে রেখে বাড়তি তেলটা শুষে নিতে পারেন। তবে ক্রিম লাগিয়ে বাইরে বের হলে মুখে ধুলাবালি আরও বেশি আটকে যাবে, বাইরে থেকে এসে খুব ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। অধিক ময়েশ্চারাইজার যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে এ সময়। অভিজ্ঞ কোনো রূপবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে নিজের ত্বকের ধরন জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী ফেস প্যাক ব্যবহার করতে হবে। মাসে দুবার পারলারে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে ব্ল্যাকহেডস ও ত্বকের মৃত কোষগুলো ভালোমতো উঠে আসবে। স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ ও মধু ভালো। তৈলাক্ত ত্বকে ভালো টকদই আর শসার রস। এই মিশ্রণগুলোর সঙ্গে বাইন্ডার হিসেবে ময়দা বা বেসন ব্যবহার করতে হবে। এখন রোদের তাপ অনেক বেশি, রোদের হাত থেকে ত্বক বাঁচাতে বাইরে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে হালকা পাউডার পাফ করে নিতে পারেন।
এ সময় একটু পরপর ঠোঁট শুকিয়ে যায়। অল্প মধু, লেবুর রস ও চিনি দিয়ে ঠোঁটে হালকা ম্যাসাজ করলে ঠোঁট নরম ও কোমল থাকবে। সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও অলিভ অয়েল মিশিয়েও ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন। চালের গুঁড়া সামান্য পানিতে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এটি ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে আসতে সাহায্য করে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে একটু পরপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো, নখ দিয়ে ঠোঁটের চামড়া খোটার মতো বদভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। সব সময় ভালো মানের লিপবাম বা লিপজেল ব্যবহার করুন।
হেমন্তে পা ফাটা রোধ করতে পেট্রোলিয়াম জেলি ভালো কাজ করে। হাত-পায়ের ত্বক সজীব রাখতে গ্লিসারিনের সঙ্গে সামান্য একটু পানি মিশিয়েও মালিশ করতে পারেন। যাঁদের পানি নাড়াচাড়ার কাজ বেশি করতে হয় তাঁরা হাতে হ্যান্ড লোশন ব্যবহার করতে পারেন। গায়ে সাবানের বদলে ময়েশ্চারাইজার যুক্ত তরল বডি ওয়াশ এ সময়ের জন্য ভালো। আর সাবান ব্যবহার করলেও তা হতে হবে গ্লিসারিনসমৃদ্ধ। তা ছাড়া গোসলের আগে সারা শরীরে অলিভ অয়েল, আমলকী ও কাঁচা হলুদের রস জ্বাল দেওয়া মিশ্রণ মেখে পরিষ্কার ও ভেজা একটি তোয়ালে দিয়ে গা মোছার পর গোসল করে ফেলতে হবে, কোনো সাবান ব্যবহার করার দরকার নেই। এটি শরীরে ডিপ ময়েশ্চারাইজিংয়ের কাজ করবে।
ফিরতে ক্লিক করুন :